ব্যানার: মুস্তাফিজুর রহমান
নীড়পাতা | সন্দেশ | লিংকস | আড্ডাঘর

Primary Links:

‹ পুরোনো ব্লগসব ব্লগনতুন ব্লগ ›

সহকর্মী কি সবসময় নিরপেক্ষ বিচারক?


লিখেছেন শামীম (তারিখ: মঙ্গল, ২০০৮-০৮-০৫ ০০:০৫)
ক্যাটেগরী: | | |

কয়েকদিন আগে, আমি যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী করি সেখানের এক জুনিয়র শিক্ষক (বিবিএ) এখানেই এম.বি.এ.তে ভর্তি হতে চাইলে একাডেমিক এডভাইজার কড়া করে না করে দিয়েছেন এবং বলেছেন এটা অনৈতীক। কারণ তাঁর সহকর্মীই যখন সরাসরি শিক্ষকতা করবেন তখন পক্ষপাতিত্বের অবকাশ রয়ে যেতে পারে। ঘটনাটা বিরাট একটা নাড়া দিয়েছে মনে। ..... তাইতো ! ধারাবাহিকভাবে বেশ কয়েকটি ঘটনা মনে পড়ে গেল।

বুয়েটের ভিসি ড. রশিদ সম্পর্কে একটা গল্প প্রচলিত আছে। শিক্ষকদের সভায় প্রস্তাব করা হল যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত এখানেও শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য ভর্তির কোটা রাখা হউক। ড. রশিদ স্যার সায় দিয়ে বলেছিলেন যে খুবই ভাল প্রস্তাব। বুয়েটের শিক্ষকদের সন্তানেরা যেহেতু বুয়েটের পড়ালেখা সম্পর্কে বাইরের অন্য যে কোন ছাত্র থেকে বেশি ওযাকিবহাল এবং ক্যাম্পাসেই থাকেন তাই তাঁদের জন্য আলাদা কোটা দরকার। এঁরা যেহেতু অন্যদের চেয়ে একটু বেশি সুবিধা পাচ্ছে তাই এদের জন্য ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন আলাদা ভাবে আরো একটু কঠিন হলে সকলের জন্য ন্যায়বিচার হবে। আপনারা প্রস্তাবটা অফিসিয়ালি পেশ করুন, অবশ্যই কোটার ব্যবস্থা নেয়া হবে। .... বলাই বাহুল্য, এর পরে আর এ বিষয়ে আলোচনা এগোয়নি।

বর্তমানে যদি কোন শিক্ষকের সন্তান বা নিকট আত্মীয় ভর্তি পরীক্ষা দেয় তবে সেই শিক্ষক ঐ পরীক্ষার্থীর সিট যেখানে তার আশে পাশে অবস্থান করতে পারেন না। যদি ভুলক্রমেও সেই হলে প্রবেশ করেন তবে পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়। কথিত আছে একজন সিনিয়র শিক্ষকের সন্তান বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সময়ে উনি কেবল ঐ রূমে গিয়েছিলেন এবং জিজ্ঞেস করেছিলেন প্রশ্ন কেমন হয়েছে ..... বেচারার পরীক্ষাই বাতিল হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু, সেই বুয়েটেই নিয়ম আছে যে কেউ লেকচারার হিসেবে যোগ দিলে বুয়েটেই মাস্টার্স করতে হবে। তারপর শিক্ষাছুটি নিয়ে পি.এইচ.ডি করতে যেতে পারে। অনেক ভাল শিক্ষক এটা না মেনে চাকুরীতে ইস্তফা দিয়ে ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করতে গিয়েছেন। তারপর নিরপেক্ষ জায়গায় নিজেদের প্রমাণ করে সব পড়া সফলভাবে শেষ করে এসে আবার ইন্টারভিউ দিয়ে জুনিয়রদের সাথে যোগ দিয়েছেন। বলাই বাহুল্য যে, তাঁদের পরে যোগ দিয়েও অনেকে বুয়েটেই মাস্টার্স করে তারপর শিক্ষাছুটিতে পি.এইচ.ডি করে চাকুরীতে সিনিয়র হয়ে গিয়েছেন। সমস্ত পদন্নোতি কয়েক বছর আগেই পেয়েছেন! বুদ্ধিমান কেউ কেউ অবশ্য বুয়েটে মাস্টার্স করার পরেও আবার বাইরে মাস্টার্স লিডিং টু পি.এইচ.ডি করেছেন।

আমরা কি ঠিক পথেই যাচ্ছি? আন্ডারগ্রাজুয়েটের গ্রেডিং কি ফুলপ্রুফ? যেই ছাত্র সেখানে ভাল করেছে, মাস্টার্সের ভিন্ন আঙ্গিকের মেধা যাচাইয়েও যে সে শ্রেষ্ঠ হবে সেটা কি নিশ্চিত? আসলেই কি এখানে অন্য কেউ আরও ভাল করতে পারে না? .... যিনি শিক্ষক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পেয়েছেন তার জি.পি.এ কিন্তু যে শিক্ষকতার চাকুরী পায়নি তার চেয়ে মাত্র ০.০১ বেশি হতে পারে। এছাড়া ভিন্ন ভিন্ন বছরে পাশকৃত সমমানের ছাত্রদের জি.পি.এ. বিভিন্ন কারণে (!) বেশ আলাদা হতে পারে।

সহকর্মী সিনিয়র শিক্ষকগণ কি আত্মীয়ের চেয়ে অনেক বেশি নিরপেক্ষ?.... নাহ্ বুঝি না; ব্যক্তিগত কারণে অসম্ভব খারাপ পরীক্ষা দিয়েছে বলে স্বীকার করেও যখন একজন লেকচারার ঐ বিষয়ে একমাত্র এ প্লাস পাওয়া ছাত্র হয় (বুয়েটের আন্ডারগ্রাজুয়েটের A+ = ৮০% কিন্তু মাস্টার্সে সেটা ৯০%) ..... তখন মনে হয় যে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এডভাইজার ঠিকই বলেছিলেন।


গড় রেটিং
( ভোট)
লিখেছেন শামীম (তারিখ: মঙ্গল, ২০০৮-০৮-০৫ ০০:০৫)
উদ্ধৃতি | শামীম এর ব্লগ | ১২টি মন্তব্য | ৩৩৮বার পঠিত

Views or opinions expressed in this post solely belong to the writer, শামীম. Sachalayatan.com can not be held responsible.

আলমগীর এর ছবি
১ | আলমগীর | মঙ্গল, ২০০৮-০৮-০৫ ০০:৪১

১. বন্ধুদের 'শিক্ষক'+পরীক্ষক হওয়ার বিড়ম্বনা আমারও হয়েছিল। খুব বেশী ত্যাদড় না হলে নীতি ঠিক রাখা কঠিন।

২. পরীক্ষারত ছাত্রের কক্ষে কোন আত্মীয় প্রবেশ করলে পরীক্ষা বাতিল হবে- এটা অন্যায় তাই অবৈধ হওয়া উচিৎ। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের শাস্তির ব্যবস্থাই অধিক অর্থবোধক।

৩. কর্মরত অবস্থায় পার্টটাইম ডিগ্রী নিয়ে প্রমোশন পাওয়াটা বিরল নয়। একই ডিগ্রিকে একাধিকবার ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহারেরও ফাঁকি আছে। (অনেক সময় উচ্চতর ডিগ্রি থাকলে SSC/HSC/Hons এর বিভাগ/শ্রেণীতে দ্বিতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য হয়- বিশেষত নন-সাইয়েন্স ফ্যাকাল্টিতে।) এটা ঠিক না বেঠিক বলতে পারব না। নিজে কখনও ভুক্তভোগী হইনি।

৪. গ্রেড: এ স্মাইলিং ফেস উইনস দি ওয়ার্লড। চেহারা ভাল, ব্যবহার ভাল, রেকর্ড ভাল ইত্যাদি পরীক্ষকের মনে অবচেতনে কাজ করতে পারে। ক্লাস শিক্ষকের পক্ষে হাতের লেখা দেখে খাতা সণাক্ত করা কঠিন কিছু না। তাই খাতা দেখার/কাটার সময় অনুরাগ/বিরাগ কাজ করতেই পারে। (নিজেই যে দুএকবার পাইনি তা বলতে পারব না।)
আর কিছু শিক্ষকের আলুর দোষের কথা নাই বা বললাম।


প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি
২ | প্রকৃতিপ্রেমিক | মঙ্গল, ২০০৮-০৮-০৫ ০০:৫৯

একটা উদাহরণ দেই। ঘটনাস্থল কানাডার একটা ইউনিভার্সিটি। নাম বললে অনেকেই চিনবে তাই বলছিনা।

আমার এক পরিচিত সিনিয়র ভাই কিছুদিন আগে সাইন্সের একটা বিষয়ে সেখানে এ্যসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তার মুখেই শুনেছি শিক্ষকের স্পাউসরা কোয়ালিফাইড হলে তারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে প্রায়োরিটি পাবে। কানাডা বলেই (ধারনা করছি) এই কোয়ালিফাইড ব্যাপারটা ঠিকমত যাচাই হবে।

কোটা সিস্টেম কমবেশি সবখানেই আছে। কোনটা ইউনিফরমলি ভালো বা খারাপ সেটার বিচার করা খুব সহজ নয়। তবে ড. রশিদের বক্তব্য ভালো লেগেছে।

আপনার লেখার জন্য স্টার দিলাম। অনেকদিন পরে পরে হলেও চমৎকার কিছু বিষয় নিয়ে লেখার জন্য ধন্যবাদ।


শামীম এর ছবি
২.১ | শামীম | মঙ্গল, ২০০৮-০৮-০৫ ০১:১৭

তারকা প্রদানের জন্য ধন্যবাদ।

দুইজন সমান যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীর ক্ষেত্রে পরিবার কোটা একজনকে বেছে নিতে সাহায্য করলে সেটা মেনে নেয়া যায়।

বুয়েটের সিভিল ডিপার্টমেন্টে আগে প্রতিবছর ৩/৪ জন করে লেকচারার নিত। এখন ২/১ জন নেয়। মাঝখানে কয়েক ব্যাচে ৬/৭ জন করে নিয়েছিল। আগের ভিসি স্যারের মেয়ের চাকুরীর জন্য ঠিক অতজন নেয়ার দরকার ছিল বলে দুষ্ট লোকেরা প্রচার করে!

অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবারের সকলেই শিক্ষক এমন পরিবারকে চিনি (বাবা-মা, কন্যা, পুত্র): কোটা সিস্টেমের ফলে ছাত্ররা কি সেখানে তুখোর শিক্ষাবিদগণের কাছ থেকে শেখার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না?

এই কোটার অপব্যবহার এটা একটা দুষ্ট চক্রের সৃষ্টি করতে পারে। কারণ যদি অযোগ্য লোক উপরে উঠে যায়, সে চাইবে অধিনস্ত সকলে তাকে জ্বী হুজুর করুক। ফলে বেছে বেছে মোসাহেব এবং তাঁর চেয়েও কম যোগ্যতার লোক জুটাবে। তারপর বাকী যোগ্য লোকদের নানামুখী চাপের মধ্যে রাখবে। (আমাদের দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারী প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই এগুলো দৃশ্যমান)।

দীর্ঘমেয়াদী ফলাফলটা কিন্তু মারাত্নক ......
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।


প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি
২.১.১ | প্রকৃতিপ্রেমিক | মঙ্গল, ২০০৮-০৮-০৫ ০১:৩৮

উদ্ধৃতি
অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবারের সকলেই শিক্ষক এমন পরিবারকে চিনি (বাবা-মা, কন্যা, পুত্র): কোটা সিস্টেমের ফলে ছাত্ররা কি সেখানে তুখোর শিক্ষাবিদগণের কাছ থেকে শেখার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না?

এরকমন ঘটনা কিন্তু খুবই বিরল। এধরনের ক্ষেত্রে যত কোয়ালিফাইড প্রার্থিকেই নিয়োগ দেয়া হোকনা কেন তা যদি একই পরিবারভুক্ত হয় তাহলে প্রশ্ন উঠবেই। একই ডিপার্টমেন্টে সপরিবারে শিক্ষকতা করলে তা অবশ্যই পাঠদানে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ভিন্ন ভিন্ন ডিপার্টমেন্টে হলে কোন সমস্যা দেখিনা।


শামীম এর ছবি
৩ | শামীম | মঙ্গল, ২০০৮-০৮-০৫ ০১:০১

ইচ্ছাকৃত ভাবেই বেশ কিছু ব্যাপার ... সরাসরি লিখিনি। ড্রাফট লেখায় ছিল।

নিশ্চিত যে পাঠকদের মধ্যে ভুক্তভোগী আছে ... কাজেই ইশারাই কাফি।
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।


তানবীরা এর ছবি
৪ | তানবীরা | মঙ্গল, ২০০৮-০৮-০৫ ০২:৩০

মানুষের মন খুবই কঠিন জায়গা। একে সম্পূর্ন নিরপেক্ষ রাখা কোন ধরনের ফিল্টার দিয়েই কোথাও সম্ভব না। খোদ ফিলিপসেই কত্তো দেখলাম নিজদের পরিবার বা চেনা জানার পর বাইরের কারোর চান্স হয়।

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে


দ্রোহী এর ছবি
৫ | দ্রোহী | মঙ্গল, ২০০৮-০৮-০৫ ০৩:৪৮

বাংলাদেশে থাকতে কয়েকজন ছাত্র/ছাত্রীকে দেখেছিলাম যাদের পিতা/মাতা একই ডিপার্টমেন্টে শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তারা বরাবরই ভাল ফলাফল করতো।

আমেরিকায় এসেও দেখলাম ডিপার্টমেন্টের চেয়্যারম্যানের মেয়ে সব পুরষ্কারই পায় যদিও ক্লাসে তার চাইতে ভাল ছাত্র/ছাত্রী অনেকেই আছে!

সুতারাং স্বজনপ্রীতি ব্যাপারটা যে শুধু বাংলাদেশেই আছে তা নয়। আমার ধারণা পুরো মানবজাতিই এই দোষে দুষ্ট!


কী ব্লগার? ডরাইলা?


শামীম এর ছবি
৫.১ | শামীম | মঙ্গল, ২০০৮-০৮-০৫ ০৭:৪৫

হুমম.................
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।


ঝরাপাতা এর ছবি
৬ | ঝরাপাতা | মঙ্গল, ২০০৮-০৮-০৫ ২০:২২

এই বিষয়টা নিয়ে তো কথনো ভাবিনি। আমি যে ইউনিতে (ড্যাফো) পড়াই সেখানকার আমার এক কলিগ একই ইউনিতে মাস্টার্স করতেছে। ভাবতেছি কাইলকা গিয়া একটা গিট্টু লাগাইয়া দিমু।


যে রাতে গুঁজেছো চুলে বেগুনি রিবন বাঁধা ভাট,
সে রাতে নরকও ছিলো প্রেমের তল্লাট।
. . . . . . . . . . . . . . . . . . (আবু হাসান শাহরিয়ার)


১০

শামীম এর ছবি
৬.১ | শামীম | মঙ্গল, ২০০৮-০৮-০৫ ২৩:০৩

ফাইস্যা গেলাম নাকি? .... গিট্টু লাগলে পরে দলবল নিয়ে আমারে খুঁজলে ....
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।


১১

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি
৭ | ইশতিয়াক রউফ | মঙ্গল, ২০০৮-০৮-০৫ ২২:০৬

ইশারাই কাফি... চোখ টিপি


রাজাকার রাজা কার?
এক ভাগ তুমি আর তিন ভাগ আমার!


১২

পলাশ দত্ত এর ছবি
৮ | পলাশ দত্ত | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৮-০৭ ১৫:০০

ভালো।


নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
ফায়ারফক্সান » কেন?

লগইন করুন

শামীম's random Flickr photos

2006-Mar-Flemingo at Tokyo Zoo-JP2006-Jan-Varanasi-Ganges-INতাজমহলের দেশী ভার্সন2004-Dec-Homemade cakes Jessore-BD2005-Sep-Nap-BDEbino Plateau2006-Jan-Varanasi-Ganges-INTakaoka_02